Halloween Costume ideas 2015
"অনেক আকাশ ( শিল্প ও সাহিত্য)"


রেজাউল করিম খান

নানা কারণেই কোনও কোনও দেশে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু হয়ে যায়। এর পেছনে শোষণ, বঞ্চনা, নিপীড়ন প্রভৃতি ইতিহাস থাকে। জনগণের একটি অংশ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। সরকার একে বিচ্ছিন্নতাবাদী, সন্ত্রাসী, জঙ্গি প্রভৃতি নামে অভিহিত করে এবং নিষ্ঠুর হাতে তা দমনের চেষ্টা করে। তেমনই এক আন্দোলন ষাট দশকের শেষে ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এটি ছিল নকশাল আন্দোলন। চীনের কমিউনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান মাও সেতুং-এর চিন্তাধারায় উদ্বুদ্ধ একদল মানুষ চারু মজুমদারের নেতৃত্বে শ্রেণি শত্রু খতমের নামে সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে। বেশ দ্রুতই সেই অন্দোলন গ্রাম থেকে শহরে ছড়িয়ে পড়ে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক তরুণ এতে যোগ দেন। এই আন্দোলন দমনের জন্য সরকার চরম পন্থা গ্রহণ করে। সরকারি বাহিনী হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে ১৯৭২ সালে নকশাল আন্দোলন দমন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু এর রেশ রয়ে যায়।
কিছুকাল পরই নকশাল অর্থাৎ মাওবাদীরা আবার তৎপরতা শুরু করে। ভারতের ছত্তিশগড়, ঝাড়খন্ড, বিহার, উড়িষ্যা ও পশ্চিমবঙ্গে তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে। তারা চায় ভারত সরকারের পতন। এই লক্ষ্যে চলছে সশস্ত্র লড়াই। বিগত কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং মাওবাদীদেরকে ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ হুমকি বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভারতের অখন্ডতা রক্ষায় ও মাওবাদী দমনে সেনা, পুলিশ, বিএসএফ, কোবরা, স্কোরপিয়নসহ সকল সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়োজিত করা হয় অপারেশন গ্রীণহাটের অধীনে। মাওবাদীদেও অধিকাংশই পাহাড়ী, আদিবাসী। পাহাড়-জঙ্গলেই তাদেও বসবাস। আপাতদৃষ্টিতে তারা নিরিহ, নানা কুসংস্কারে আচ্ছন্ন। কিন্তু কেন তারা ভারতের বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার উচ্ছেদ চায়, কেন তারা বিদ্রোহ করলো, অস্ত্র হাতে তুলে নিল? এসব প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য ভারতের প্রখ্যাত লেখিকা অরুন্ধতী রায় গভীর জঙ্গলে গিয়ে মাওবাদীদেও সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ক্যাম্পে থেকেছেন। তাদের কথা শুনেছেন। রাষ্ট্র কিভাবে উন্নয়নের নামে বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থে তাদেও শোষণ করছে, গ্রামবাসীকে উচ্ছেদেও জন্য গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে। হত্যা, লুট ও নারী ধষণ করা হচ্ছে। ছত্তিশগড়, ঝাড়খ-, বিহার, উড়িষ্যা প্রভৃতি এলাকা খনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ। খনি কোম্পানি ও বহুজাতিক কোম্পাগিুলোর কাছে এসব এলাকা স্বপ্নপুরী। কিন্তু ৬০ প্রায় হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় ভারত সরকারের কর্তৃত্ব খুবই কম। কোম্পানিগুলোর সহায়তায় সরকার এইসব এলাকা নিজের নিয়ন্ত্রণে নিতে চায়। অরুন্ধতী রায় এসবই খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাঁর লেখার বাংলা অনুবাদ করেছেন মেহেদী হাসান। সেখান থেকে কিছু অংশ এখানে প্রকাশ করা হলো।
অরুন্ধতী রায় মাওবাদীদের সাক্ষাৎ পাবার বাসনা জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। একদিন সকালে দরজার নিচ দিয়ে প্রবেশ করানো একটি খাম পাওয়া গেল। খামের ভেতর সাদা কাগজে টাইপ করা একটি চিরকুট। তাকে ছত্তিশগড়ের দান্তেবড়ায় মা দান্তেশ্বরী মন্দিরে যেতে বলা হয়েছে। যাবার জন্য দুই দিনে চারটি সময় নিধারণ করা ছিল। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, গাড়ির চাকা বারবার পাংচার হওয়া, অবরোধ, পরিবহন ধর্মঘট এসব মাথায় নিয়ে সেখানে যেতে হয়েছিল। চিরকুটে লেখা ছিল, সাথে ক্যামেরা, কপালে পরার জন্য লাল টিকা রাখতে। সাথে নারকেল থাকলে ভাল হয়। অভ্যর্থনাকারীর মাথায় টুপি, হাতে হিন্দি ‘আউটলুক’ ম্যাগাজিন থাকবে। সংকেত ‘নমস্কার গুরুজি’। দান্তেবড়া একটি আজব শহর। সেখানে পুলিশ থাকে সাদা পোশাকে আর বিদ্রোহীরা ইউনিফর্ম পরা। জেল সুপার থাকে জেলে আর বন্দিরা থাকে বাইরে। ধর্ষিতা নারীরা থাকে পুলিশ হেফাজতে আর ধর্ষকরা বাজারে বক্তৃতা দিয়ে বেড়ায়। ইন্দ্রাবতীর এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্ত পর্যন্ত যেসব অঞ্চলে মাওবাদীদেও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে তাকে পুলিশ ‘পাকিস্তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। সেখানে গ্রামগুলো মানুষশূন্য আর জঙ্গল মানুষ ভর্তি। যে শিশুদেও স্কুলে যাবার কথা, তারা জঙ্গলে দৌড়ায়।
ঊনের বিদ্রোহীরা খুবই বেপরোয়া। এদেও ঘিওে রয়েছে আধা সামরিক বাহিনী। যাদেও আছে আধুনিক অস্ত্র, পর্যাপ্ত অর্থ, গোলাবারুদ, গণমাধ্যম ও ভারতের উদীয়মান পরাশক্তি হয়ে ওঠার দম্ভ। অন্যদিকে এর বিপরীতে রয়েছে সাধারণ গ্রমবাসী। তাদের হাতে প্রচলিত অস্ত্র। জঙ্গলের এ যুদ্ধ মাওবাদী ও ভারত সরকারের মধ্যে যুদ্ধ। মাওবাদীরা নির্বাচনকে একটি প্রতারণা ও সংসদকে শুয়োরের খোয়াড় মনে করে।
মধ্য ভারতের উপজাতি সম্প্রদায়গুলো দীর্ঘকাল থেকে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে। হো,ওরাঁও, কোল,সাঁওতাল, মন্ডা ও গোন্ডি সম্প্রদায় বিভিন্ন সময়ে ব্রিটিশ, জমিদার ও মহাজনদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ এবং সংগ্রাম করেছে। অতি নির্মমবাবে এসব বিদ্রোহ দমন করা হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু কখনই তাদের সম্পূর্ণ পরাভূত করা সম্ভব হয়নি। বংম পরম্পরায় চলমান বিদ্রোহ ঐসব অঞ্চলের জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এই কারণে সরকার তাদের পরিকর্পিতভাবে কোনঠাসা ও বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। ইন্টারনেটে একটি নিবন্ধে লেখা হয়েছে, ্ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা ভাবতীয় পুলিশ বাহিনীর ৩০ জন কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে, মাওবাদী নেতাদের পরিকর্পিতভাবে হত্যা বিষয়ে। শীর্ষ মাও নেতাদের হত্যা করে তাকে মস্তকবিহীন করাই এর লক্ষ্য। এজন্য ইসরায়েল থেকে যন্ত্রপাতিও কেনা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। লেজার রেঞ্জ ফাইন্ডার, থার্মাল ইমেজিং ইকুইপমেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর অতি জনপ্রিয় মনুষ্যবিহীন গোয়েন্দা বিমান আনা হয়েছে। এগুলো দরিদ্র জনসাধারণের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অতি যুৎসই অস্ত্র।
রায়পুরা থেকে দান্তেবড়ে ১০ ঘন্টার পথ। মাও অধ্যূষিত বিভিন্ এলাকা হয়ে যেতে হয়। অরুন্ধতী রায় ভালভাবেই মা দান্তেশ্বরী মন্দিওে পৌঁছলেন। সাথে ক্যামেরা, ছোট একটা নারকেল ও কপালে পাওডারের লাল টিকা ছিল। একমিনিটের মধ্যে এক যুবক কাছে এলো। নাম মংটু। তার মাথায় একটি ক্যাপ। এরপর মোটরসাইকেল যাত্রা। বনের ভেতর দিয়ে বেশ দীর্ঘ পথ। তিন ঘন্টা পর ওরা একটি চওড়া নদীর সাদা বালুতীরে পৌঁছল। নদীর মাঝখানে পারির ধারা। গভীরতা পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত। সহজেই হেঁটে পার হওয়া যায়। নদীর অপরপারে চান্দু অপেক্ষা করছিল। তার হালকা সবুজ জামায় লেখা ছিল ‘হরলিক্স’। সে অরুন্ধতীকে সাথে নিয়ে পাহাড়ে ওঠা শুরু করল। পথে যেতে যেতে জানালো, সে এলএমজি ছাড়া সব ধরণের অস্ত্র চালাতে জানে। ধীরে ধীরে পাহাড়ে রাত নামল। কিছুক্ষণ পর একটি গ্রামের দেখা পাওয়া গেল। অরুন্ধতী ২০ জন তরুণ তরুণীকে দেখতে পেলেন। চান্দু বলল, ওরা গ্রামের গেরিলা বাহিনী। মনে হলো ওরা মরার জন্য তৈরি হয়ে আছে। কমলার বয়স ১৭ বছর। তার কোমওে ঘওে তৈরি পিস্তল। পুলিশ যদি তাকে পায় তো হত্যা করবে। প্রথমে হয়তো তাকে ধর্ষণ করবে। ্জন্য পুলিশ কে কেউ কোনও প্রশ্ন করবে না। কারণ সে ভারতের নিরাপত্তার জন্য অভ্যন্তরীণ হুমকি।#

তারিখ: ২২/০৮/১৬     


জাকির তালুকদার
লিখতে এসে দেখলাম, এ এমন এক শাস্ত্র যা শেখার কোনো ইস্কুল নেই। পাঠ্যপুস্তক রয়েছে অসংখ্য, তবে নিজে লেখার সময় সেই সব পাঠ্যপুস্তককে অনুসরণ করলে তা হবে চৌর্যবৃত্তি। শুধু ছোটগল্প লেখাই নয়, বরং সব ধরনের সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে এই একই কথা প্রযোজ্য। পূর্বজ, অগ্রজ, সমসাময়িকÑ সকলের কাজ সম্পর্কে জানতে হবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে, কিন্তু যে কোনো জনকে অনুসরণ-অনুকরণ করলেই সৃজনশীলতার সর্বনাশ। এই জিনিসটি বুঝতে বুঝতেই কেটে গেছে বছরের পর বছর। তাই গল্প লেখার চেষ্টা অনেকদিন ধরে করে চললেও নিজের প্রথম গল্পটি লেখা হয়েছে অনেক পরে। নিজের লেখা মানে সেই লেখা যা একেবারে আমার নিজস্ব। এতখানি নিজস্ব যে, আমি না লিখলে কোনোদিনই আর লেখা হতো না গল্পটি।
আমি তখন চাকরিসূত্রে বসবাস করছি একেবারে অজ পাড়াগাঁয়ে। সেটি আমাদের দেশের মঙ্গা এলাকার এমনই এক অজ পাড়া গাঁ যে সেখানে বিকালে অফিস সময় অর্থাৎ আউটডোরের রোগি দেখা শেষ হয়ে গেলে আর কথা বলার মতো কোনো লোক পাওয়া যায় না। সপ্তাহে সাড়ে পাঁচ দিন আমার এইভাবেই কাটে। দেড়দিন কাটে সপ্তাহান্তে বাড়িতে নিজের শহরে। শহরে জন্ম, শহরে বেড়ে ওঠা, শহরে লেখাপড়া করা এই আমার মধ্যে কিন্তু  অজ পাড়া গাঁয়ে থাকার জন্য কোনো অস্বস্তির খোঁচা ছিল না। আমি বরং প্রত্যন্ত অঞ্চলের অপ্রতুল সম্পদের মধ্যে, বলা ভালো নিরতিশয় দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করেও কীভাবে মানুষ নিজের মনুষ্যত্বকে ধরে রাখতে পারে, তা দেখে দেখে মুগ্ধ হচ্ছি প্রতিনিয়ত। মনে হচ্ছে এতদিনে একটু একটু শিক্ষিত হচ্ছি। যে দারিদ্র লক্ষ লক্ষ মানুষের গায়ে তাদের চামড়ার মতো অমোচনীয় হয়ে লেগে রয়েছে, সেই দারিদ্র্যকে অবলীলায় অস্বীকার করে সেই মানুষগুলো যখন চরম মানবিকতার পরিচয় দেয়, তখন আমি মাথা নোয়াই তাদের কাছে। তার মানে এই নয় যে তাদের মধ্যে খেয়োখেয়ি কম রয়েছে। খেয়োখেয়ি রয়েছে। তীব্রভাবেই রয়েছে। সেটাই থাকার কথা। কিন্তু সেই খেয়োখেয়িরত জানোয়ারদের মধ্য থেকে যখন মনুষ্যত্ব এত উজ্জ্বলভাবে বেরিয়ে আসে, তখন চোখ ঝলসে না গিয়ে পারে না। সেই সময়েই আমার নিজের উপলধ্বিÑ আমি গল্প লিখতে পারব। আমার নিজের মতো করে গল্প লিখতে পারব। এতদিন মনে হতো, অঅমি লিখবটা কী? সবই তো রবীন্দ্রনাথ-মানিক-তারাশঙ্কর-বিভূতি-ইলিয়াসরা লিখে বসে আছেন! কিন্তু সেখানেই প্রথম আমার মধ্যকার ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ হবার মতো ঘটনাটি ঘটে।
লিখলাম ‘দাস পরম্পরা’ এবং ‘সোলেমান পয়গম্বরের দেয়াল’ নামের দুইটি গল্প। দুটি গল্পই পর পর দুই সংখ্যায় ছাপা হলো ‘নিসর্গ’ পত্রিকায়। পত্রিকা হাতে নেবার সময় ভেতরে ভেতরে আবেগের একটি কম্পন অনুভব করছিলাম। হাতে লেখা কপি বার বার পড়েছি। কিন্তু ছাপা অক্ষরে লেখা নিজের গল্পের চেহারাটি বারংবার দেখেও যেন আশ মেটে না। অন্তত মাসখানেক যেখানি গেছি পত্রিকাটি সঙ্গে নিয়ে ঘুরেছি। অন্য কাউকে দেখাইনি। কিন্তু আমার সঙ্গে সঙ্গে রেখেছি। স্থানান্তরের সময় ব্যাগের মধ্যে, কাজ করার সময় টেবিলের ওপরে, আর রাতে ঘুমানোর সময় বিছানাতে নিজের শিথানে থেকেছে পত্রিকাটি। আর যখন পরিচিত কেউ গল্পটি ভালো লাগার কথা বলেছেন, তখন আনন্দের চাইতে কৃতজ্ঞতার বোধটিই বেশি কাজ করেছে। তারা আমার মতো নাম-না-জানা একজন লেখকের গল্প মনোযোগ দিয়ে পড়েছেন! তখন কল্পনাও করতে পারিনি যে ভবিষ্যতে ‘দাস পরম্পরা’ গল্পটি আরও অনেক জায়গাতে ছাপা হবে। ছাপা হবে রবিউল করিমের ‘নব্বই দশকের গল্প’ সংকলনে। ‘নিসর্গ’ পত্রিকাটি কলকাতায় যায়। সেখানেও কেউ কেউ কফি হাউসের আড্ডায় ‘দাস পরম্পরা’ গল্পটির উল্লেখ করেছেন শুনে আপ্লুত হয়েছিলাম। বিশ্বাস করতেও একটু কষ্ট হচ্ছিল। তবে সেই অবিশ্বাস কেটে গেল সেদিন, যেদিন চিঠি পেলাম কলকাদার প্যাপিরাস প্রকাশনী থেকে গৌরাঙ্গ মুলের মাধ্যমে। তারা তিন খ-ে ‘বাাংলাদেশের গল্প’ প্রকাশ করছেন। সেখানে আমার এই গল্পটি ছাপতে চান। সেদিন আনন্দে চোখদুটো ভিজেও উঠেছিল হয়তো।  



আতোয়ার হোসেন

কর্মসংস্থানে নানান ক্ষেত্রের মধ্যে টেলিভিশন অফিস এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম। এখানে বিভিন্ন দক্ষতার লোকের সমাহার থাকে। অনুষ্ঠান পরিচালন, হিসাবরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা, রিপোর্টিং, সংবাদ সম্পাদনা, ভিডিও সম্পাদনা, অ্যাঙ্করিং ও সম্প্রচার মিলিয়ে কয়েকশ ব্যক্তির প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ জরুরী হওয়ায় কর্মসংস্থানের পরিসরটা বেশ বড়। তার মধ্যে খোদ ক্যামেরা চালানো লোকের সংখ্যা ও তাদের বিষয়াদি আমার কাছে বিশেষ ভাবনার জায়গা করে নিয়েছে। বিশেষ করে যারা সংবাদ সংগ্রহের কাজ করে, তাদের নিয়ে প্রচুর আলোচনার চাহিদা আছে বলে আমি মনে করি। প্রসঙ্গত, আমি নিজে এই পেশারই মানুষ।
টেলিভিশনে ক্যামেরার সাথে কর্ম করে খাওয়ার লোকের সংখ্যা আজ নেহায়েত কম নয়। প্রতিটি টিভি-স্টেশনে কমপক্ষে ৪০ জন লোক শুধু ক্যামেরা চালানোর কাজই করে থাকে। স্টেশনের চরিত্র অনুযায়ী এই সংখ্যা আরও বেড়ে থাকে। মোটের উপরে বলা যেতে পারে, সহ¯্রাধিক ব্যক্তি এই পেশার সাথে জড়িত। এর প্রায় অর্ধেক কেবল সংবাদের চিত্র ধারণের জন্য নিয়োজিত থাকে। এই পরিসংখ্যান কেবল রাজধানী ঢাকার। সারা দেশের সংখ্যাও ¯্রফে কম নয়। সংবাদ ভিত্তিক কিছু টেলিভিশন বর্তমানে পাইপলাইনে থাকায় ধরেই নেওয়া যায় যে, প্রায় শতাধিক লোক শীঘ্রই এই পেশায় ঢুকতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশে যারা সংবাদের চিত্র ধারণ করে থাকে, তাদের পেশাগত পরিচয়ের ভিন্নতা দেখা যায়। তারা কাগজে-কলমে অধিকাংশ স্টেশনে ক্যামেরাম্যান (জুনিয়র ক্যামেরাম্যান/ক্যামেরাম্যান/সিনিয়র ক্যামেরাম্যান) এবং কোথাও কোথাও ভিডিওজার্নালিস্ট বলে অভিহিত হয়ে থাকে। তবে, আজকাল ক্যামেরাম্যান শব্দের বদলে মৌখিকভাবে ক্যামেরা পার্সন কথাটিকে ব্যবহারের প্রচলন ও দাবি প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পেশার লোকদের নাকি তাতে খানিকটা ইজ্জতবৃদ্ধি ঘটে। এটাকে অবশ্য আমি ¯্রফে বাজারসংস্কৃতি বলে মনে করি। এই দুই নামের অদল-বদলে আমার কিছু কমে বা বাড়ে বলে মনে হয় না। এ-ও বুঝি যে, কর্পোরেট পলিসি আমাকে যে নামে ডাকবে তা প্রতিষ্ঠাও পাবে।
ব্যক্তিগতভাবে আমি ক্যামেরা শব্দটির সাথে ম্যান ও পার্সন কোনোটার ব্যবহারেই খুশি নই। শব্দগত পরিচয়ে আমার আপত্তির কারণও ভিন্ন বলে মনে করি। যারা কেবল সংবাদেই কাজ করে তাদের জন্য অন্য কোনও নাম-পরিচায়ক আমার ভাবনায় গুঁতোগুতি করে। কারণ ক্যামেরাম্যান শব্দটি আমার পেশার সঠিক পরিচয় দিতে পারে না।
ক্যামেরা দিয়ে কেউ স্থিরচিত্র (ফটো) ধারণ করলে তাকে আমরা ফটোগ্রাফার বলছি। সেই কাজটাই যদি কেউ কোনও সংবাদের প্রয়োজনে করে থাকে, তখন তাকেই বলছি ফটোসাংবাদিক। বিষয়টা আমার কাছে ভালো লাগে। হয়তো এরচেয়ে আরও ভালো পরিচয় থাকতে পারে। তবুও ব্যাপারটাকে আমার ভালো লাগে। আবার ক্যামেরা দিয়ে কেউ চলচ্চিত্র (ভিডিও) ধারণ করলে আমরা তাকে ক্যামেরাম্যান বলতে শিখেছি। ক্যামেরাম্যান নাটকের ভিডিও করে, সিনেমার কাজ করে, বিয়ে ও মিউজিক ভিডিওর কাজ করে এবং সংবাদের জন্যও ভিডিও ধারণ করে। তো, এর মধ্যে সিনেমার কাজ করা ক্যামেরাম্যানকে সিনেমাটোগ্রাফার ও একাধিক লোকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ, অভিজ্ঞ এবং অধিক দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি) বলছি। তবে, এক কথায় সবাইকেই আমি ক্যামেরাম্যান বলে চিনতে পারি।
এখন, আমি একটি টেলিভিশনে কেবল সংবাদের চিত্র ধারণের জন্য নিয়োজিত একজন ব্যক্তি। আমাকেও ক্যামেরাম্যান বলেই ডাকা হয়। তখন, আমার পরিচিত পরিম-লে আমি একপ্রকার আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে ভূগি। সমাজ আমার কাজ সম্পর্কে কোনও ধারণা করতে পারে না বলে মনে হয়। আমাকে এইভাবে বলতে হয় যে, আমি ক্যামেরাম্যান, নিউজে কাজ করি। এবং শেষ কথাটি আমি জোর করে বলে ফেললাম ভেবে ইতস্তত বোধ করি। একটি সহজ পরিচয়ের প্রত্যাশা করি, যা দিয়ে আমার পেশাকে আমি ঠিকভাবে  পেশ করতে পারি।
ক্যামেরাম্যান বা ক্যামেরা পার্সন বলে চিহ্নিত হতে আমার কোনও লজ্জা নেই। সমস্যা একটাই; আমার সঠিক পরিচয় উত্থাপিত হচ্ছে না। ক্যামেরা হাতে নিয়ে যতো প্রকার কাজ আছে তার ঠিক কোনটা আমি করি, বোঝা যাচ্ছে না। যদি আরও খোলাসা করে বলি, সংবাদের ক্যামেরাচালককে আমি অন্যান্যদের থেকে মহিমান্বিত মনে করছি না। কাউকে ছোটও করতে চাইছি না। কেবল বলতে চাইছি যে, বিয়ের ভিডিওকারী, সিনেমাটোগ্রাফার, ডিওপিদের থেকে আমার কাজ ও কাজের ক্ষেত্র ভিন্ন। ফলে আমাকে ভিন্ন কোনও নামেই পরিচয় করাতে হবে।

বাংলাদেশে টেলিভিশনে কাজ করা সংবাদের ক্যামেরাম্যানকে আমি ভিডিওসাংবাদিক (ভিডিও জার্নালিস্ট) বা সম্প্রচার সাংবাদিক (ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট) বলে চিহ্নিত করার কথা বলতে চাই। দ্বিতীয়টিকে আমি অপেক্ষাকৃত বেশি পছন্দ করছি। অথবা, আরও ভেবে এমন একটা নাম নির্বাচন করা যেতে পারে, যা দিয়ে তাদের পরিচয়টা সহজ হতে পারে। দিনে দিনে এই পেশার লোকসংখ্যা যতো বাড়বে, বিষয়টি ততোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সময়োপযুক্ত ও সম্মানসূচক নামকরণে পেশার মানোন্নয়ন ঘটে বলে আমি বিশ্বাস করি।




বিপ্লব কুমার পাল

জেলা পর্যায়ে সংবাদপত্র প্রকাশের চেয়ে টিকে থাকাই সবচেয়ে কঠিন। অনুন্নত জেলা বিশেষ করে সেখানে শিল্প কারখানা নেই, পৃষ্ঠপোষকতার বড় অভাব সেখানে এই টিকে থাকার যাত্রাটা হয় ভয়ংকর। তবে সংগ্রাম করে টিকে থাকতে পারে, তাদের হাতেই থাকে জয়ের পতাকা।
রানীভবানী কিংবা বনলতা, চলনবিল বা কাঁচাগোল্লার এই নাটোর বাংলা ভাষাভাষিদের কাছে পরিচিতি। যেটি অন্য জেলার বেলায় সম্ভব হয়নি। প্রাচীন শহর। শিক্ষা-সাহিত্য এক সময়ের অগ্রসরের জেলা। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাহিত্য আসর কিংবা পলাশের প্রান্তরে সৈন্য পাঠানোর ইতিহাসে উজ্জ্বল নাটোর। কিন্তু সেসব ইতিহাস। বর্তমানে এর মিলে খুঁজে পাওয়া কঠিন।
শিক্ষা- সাহিত্য-রাজা-জমিদারের রাজত্ত্ব কিংবা যোগাযোগে এগিয়ে থাকা নাটোর এখন অর্থনীতিতে পিছিয়ে পড়া জেলা। যদিও সরকারে যারা থাকেন সেসব রাজনৈতিক দলের নেতারা তা মানতে পারে না। সামাজিক আন্দোলনের সেই তেজও আর নেই। গ্যাসের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও তার ফসল তুলতে পারেনি নাটোরবাসী। আশ্বাস আর হুমকিতে আন্দোলনকারীরা আর মাঠে নামেনি। আশ্বাসের মুলা ঝুলে রইলো নাটোরবাসীর সামনে।
নাটোরের গণমাধ্যমও দুর্বিসহ সময় পার করেছে। এখনও যে করছে না তা নয়। নাটোরের সাহিত্য পত্রিকা ইতিহাস খুবই উজ্জ্বল। পেয়েছে রাজা-জমিদারদের সহযোগিতা। কিন্তু ভারতবর্ষ ভাগ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে সাহিত্য পত্রিকা বের হয়েছে। যদিও প্রকাশনা নিয়মিত রাখতে পারেনি বেশিরভাগ পত্রিকা। মহকুমা থেকে জেলা হওয়ার পর, সাংবাদিকতায় গুরুত্ব পায় নাটোর। শুরু হয় আরেক লড়াই। ঢাকার প্রতিকার প্রতিনিধি হয় অনেকে।
রাজধানী নয়, মফঃস্বল শহর থেকেই বাংলা সংবাদপত্রের অগ্রযাত্রা শুরু হয়েছিলো। ১৮৪৭ সালে রংপুর থেকেই বেড়িয়েছিল বাংলাদেশের প্রথম সংবাদপত্র ‘রঙ্গপুর বার্ত্তাবহ’। বাংলাদেশের তৃতীয় সংবাদপত্র প্রকাশিত হয় মফঃস্বল শহর রংপুর থেকেই। ১৮৫৬ সালের ১৮ এপ্রিল ঢাকা থেকে ‘ঢাকা নিউজ’ প্রকাশিত হয়। এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংবাদপত্র। গ্রামের মানুষের সুখ, দুঃখ, হাসি-কান্নার সংবাদ এবং অভাব-অভিযোগ, দাবি, প্রত্যাশার সংবাদ প্রকাশে প্রথম উপলব্ধি করেন কাঙাল হরিনাথ মজুমদার। ১৮৬৩ সালের এপ্রিল মাসে তিনি ‘গ্রামবার্তাপ্রকাশিকা’ প্রকাশিত করেন। মফঃস্বল সংবাদপত্রের ইতিহাস গুরুত্বপুর্ণ অবদান রেখেছে রাজশাহী বোয়ালিয়া ধর্মসভার মুখপত্র ‘হিন্দুরঞ্জিকা’। পত্রিকাটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৮৬৮ সালের এপ্রিল মাসে। ৮০ বছর ধরে পত্রিকাটি একটানা প্রকাশিত হয়েছিলো।
এবার আসি আমাদের নাটোর প্রসঙ্গে। বেশ কয়েকটি সাপ্তাহিক মাসিক পত্রিকা প্রকাশিত হলেও দৈনিক প্রকাশ নাটোরের অন্যতম পত্রিকা। অনুন্নত প্রযুক্তিতে ছাপতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে উদ্যোক্তাদের। এরপর দৈনিক উত্তরপথ প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাদের যাত্রা দীর্ঘ হয়নি। এরপর নাটোর থেকে প্রকাশ হয় দৈনিক উত্তরবঙ্গবার্তা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা হানিফ আলী শেখ এর সম্পাদক ও প্রকাশক। ভালো ছাপা মেশিন না থাকায় নিয়মিত পত্রিকাটি ছাপা হতো বগুড়া থেকে। এরপর ধীরে ধীরে এর কলেবর বাড়ে। নিজস্ব মেশিনে ছাপা হয় উত্তরবঙ্গবার্তা। একবার রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয় পত্রিকাটি। নিয়ম না মেনে বিএনপির সময়ে পত্রিকাটি বন্ধ করে দেয়া হয়। পরে আইনি লড়াইয়ে জেতে আবার প্রকাশিত হয় উত্তরবঙ্গবার্তা। সাফল্য আসে সম্পাদকের ঘরে। কিন্তু সেই সুনাম বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি পত্রিকাটি। ছাপার মান খারাপ হওয়ার সাথে সাথে সংবাদের গুণগত মানও কমতে থাকে। তবে আশার কথা পত্রিকাটির প্রকাশনা এখনো অব্যাহত আছে।
চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহযোগিতায় নাটোর থেকে প্রকাশিত হয় দৈনিক জনদেশ। ব্যবসায়ী ও তখনকার বিএনপি নেতা আব্দুল মান্নাফের সম্পাদনায় পত্রিকায় যোগ জেলার বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক। নিয়মিত বেতন আর অফিস সজ্জাও ছিল ঈর্ষাণীয়। অনেক ঢাকঢোল পিটিয়ে  প্রকাশনা শুরু করলেও স্বর্ণময় দিন তারা বেশি দিন ধরে রাখতে পারেনি। তবে নানা সমস্যার পরও জনদেশ এখন প্রকাশিত হয়, এটিও গণমাধ্যম কর্মীদের বড় পাওয়া। এরপর আরো দুটি দৈনিক প্রত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয়। একটি দৈনিক উত্তরকণ্ঠ, আরেকটি দৈনিক প্রান্তজন। স্বচ্ছ ছাপার পাশাপাশি প্রতিকা দুটোর প্রকাশনাও নিয়মিত। এরমধ্যে নিজস্ব প্রেস বসিয়েছে প্রান্তজন। নাটোরের পত্রিকায় গুণগত পরিবর্তন আসছে। এরমধ্যে দৈনিক প্রান্তজন তিন বছরে পা রেখেছে। প্রান্তজনের পথচলা সুন্দর হোক, শুভেচ্ছা তাদের কর্মীবাহিনীকে।
বাংলাদেশের সংবাদপত্রের সূচনা হয়েছিলো আঞ্চলিক সংবাদপত্র থেকেই। একারণে আঞ্চলিক সংবাদপত্রের প্রয়োজন বেড়েছে কিন্তু কমেনি। যদিও এসব সংবাদপত্র সেই প্রয়োজন মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে। আগামীদিনের আঞ্চলিক সংবাদপত্রকে সমৃদ্ধ করার জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। আঞ্চলিক পত্রিকার মালিকদের প্রথমে বুঝতে হবে, তিনি যে সংবাদপত্র প্রকাশ করতে যাচ্ছেন সেই পত্রিকা পাঠকের প্রত্যাশা কতটুকু পুরণ করতে পারবে। সবার আগ্রহ থাকলে পত্রিকা প্রকাশনায় নামতে পারেন। তবে প্রথম দিন থেকেই লাভ নেওয়ার চিন্তা ত্যাগ করতে হবে। আধুনিক প্রিন্টিং ব্যবস্থা স্থাপন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে সাংবাদিক-কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধ করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠ, নিরেপেক্ষ আঞ্চলিক সংবাদ সুন্দর কাগজে ঝকঝকে ছেপে পাঠকের হাতে পৌঁছাতে হবে। আঞ্চলিক পত্রিকা বিকাশের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের ‘সংবাদপত্র ঋণ’ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। মালিক অথবা সম্পাদক সার্টিফিকেট জমা রেখে এই ঋণ গ্রহণ করতে পারেন। ঢাকায় দেয়াল সংবাদপত্র না করে, সেই টাকায় নিজ জেলায় একটি সংবাদপত্র প্রকাশ করতে পারেন। এতে করে আঞ্চলিক সংবাদপত্রের অর্থনৈতিক ভিত্তি আরো মজবুত হবে। মফঃস্বল সাংবাদিকরা রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সন্ত্রাসী এবং প্রশাসনের রোষানলে পরেন। মন্ত্রী, প্রশাসন এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কর্মীদের আঞ্চলিক সংবাদপত্রের উপর তাদের অনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
আঞ্চলিক সংবাদপত্রের বিকাশের জন্য আমাদের এভাবে এগিয়ে যেতে হবে। এটি করা সম্ভব। চারণ সাংবাদিক মরহুম মোনাজাত উদ্দিনের মতো সাংবাদিকরা যারা গ্রাম-বাংলায় বিরাজ করছেন, তাদের হতে হবে আঞ্চলিক সংবাদপত্রের মূল কা-ারী। এইভাবে একদিন আমাদের আঞ্চলিক সংবাদপত্র ফিরে পাবে তার হারানো ঐতিহ্য।

বিপ্লব কুমার পাল: গণমাধ্যম কর্মী

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget