Halloween Costume ideas 2015
"রাজনীতি"


বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ঘোষণার পর বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ৬ আগস্ট এই কমিটি ঘোষণা করা হয়। স্থায়ী কমিটির ১৯ সদস্যের মধ্যে ১৭ জনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাহী কমিটিতে ৫০২ জনের নাম আছে আর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদে আছেন ৭৩ জন। বিএনপির ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় কমিটি। অনেকে বলছেন, সকলকে খুশি রাখতে এতো বড় কমিটি গঠন করা হয়েছে। কেন খুশি রাখতে হবে, খুশি না রাখলে কী সমস্যা হবে, এমন প্রশ্নে অবশ্য কোনও নেতা মুখ খোলেন নি। তবে দলের স্থায়ী কমিটিতে প্রথমবারের মতো মনোনীত আমীর খসরু মাহমুদ চোধুরী মনে করেন, বিগত বছরগুলোতে সরকারের দমননীতির কারণে বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মী নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। এই কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বিএনপির কাউন্সিল হয়নি। এর মধ্যে নেতা হওয়ার মতো কর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক নেতা নানারকম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। অনেকে জীবন বাজি রেখেছেন। মেধাবী তরুণ, নারী ও অন্যান্য পেশাজীবীর কথাও ভাবতে হয়েছে। ফলে কমিটি বড় হয়েছে। এই কমিটি আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যথার্থ ভূমিকা রাখবে।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর প্রথম যে বিষয়টি আলোচনায় আসে তা হচ্ছে, কয়েকজনের পদত্যাগ ও পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ-বিক্ষোভ।  নাম প্রকাশের পরপরই চেয়ারপারসনের ্উপদেষ্টা মোসাদ্দেক আলী ফালু ও সহপ্রচার সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীম পদত্যাগের ঘোষণা দেন। নতুন কমিটিতে ভাইস চেয়ারম্যান পদ পেয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি আব্দুল্লাহ আল নোমান। পদত্যাগ করতে পারেন উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য গোলাম আকবরও। কমিটিতে স্থান না হওয়ায় জিয়া পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সংগঠনের সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহার। কমিটিতে স্থান না হওয়ায় যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা এসএম জিলানী সোমবার সকালে তার সমর্থকদের নিয়ে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বিক্ষোভ করেন। জয়নাল আবেদীন ফারুক ও নব্বুইয়ের গণআন্দোলনের কয়েকজন ছাত্রনেতাও কমিটির সমালোচনা করেছেন। এসবই এসেছে নানা প্রচার মাধ্যমে। খবর সংগ্রহ ও প্রকাশে কিছু ভুল ত্রুটি থাকতে পারে, তবে নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিএনপির অভ্যন্তরে এমনই চলছে। অনেকে বলছেন ছোট আকারের কমিটি হলেও পদবঞ্চিতদের মান অভিমান থাকত। এপ্রসঙ্গে দলের মহাসচিব ফকরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গত ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত কাউন্সিল বেগম খালেদা জিয়াকে দলের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের দায়িত্ব দেয়। এই কমিটি নিয়েই বিএনপি আগামী তিন বছর রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে।
ভাবনার বিষয় এই যে, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল কিনা, দলটি রাষ্ট্র ক্ষমতায় খাকাকালে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ছিল কিনা এবং বতমানে তাদের দলের মধ্যে গণতন্ত্রে চর্চা আছে কিনা। এখানে স্মরণ করা যায়, ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জেনারেল জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। ক্ষুদ্র কয়েকটি দলের সুযোগ সন্ধানী কিছু ব্যক্তি ঐ দলে যোগ দেন। তাদের মধ্যে স্বাধীনতাবিরোধীও ছিল। ছিল ডান, বাম ও মধ্যপন্থীসহ সকল স্তরের লোক। তিনি বাঙালি জাতীয়তাবাদের পরিবর্তে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের তত্ব প্রচার ও প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি মত প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে নানা মত ও ধর্মের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠি বাস করে। তাদের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রা ভিন্ন। তাই ভাষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে নয়, ভূথ-ের ভিত্তিতেই জাতীয়তাবাদকে গ্রগণ করা উচিত। তাঁর দলে রাজনীতিতে নতুন ও তরুণদের অংশগ্রহণ ছিল বেশি। তিনি তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। ১৯৮০ সালের সেপ্টেম্বরে এই ধরনের একটি কর্মশালা উদ্বোধনকালে তিনি বলেন, “কোনও রাজনৈতিক আদর্শ ধর্মকে ভিত্তি করে হতে পারে না। অবদান থাকতে পারে। পাকিস্তান আমলে  ধর্মকে নিয়ে রাজনীতি করা হয়েছিল, তা বিফল হয়েছে। কারণ ধর্ম শুধু ধর্মই।” তিনি মুখে একথা বললেও তাঁর সময়ে বাংলাদেশে ধর্ম নিয়ে রাজনীতির সূচনা হয় এবং শাখা প্রশাখায় বিকশিত হয়। তিনি সব দলকে রাজনীতি ও নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। কিন্তু তাঁর দলে গণতন্ত্রের চর্চা ছিল না। তাঁর নির্দেশেই দল পরিচালিত হতো। এই ধারা এখনও অব্যাহত আছে।
স্বায়ত্বশাসন ও বাঙালির অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি তুলে আওয়ামী লীগ পাকিস্তান আমলে যেমন পুর্ব বাংলার মধ্যবিত্ত ও নি¤œমধ্যবিত্তদের সমর্থন পেয়েছিল, তেমন ধর্ম ও ভারত বিরোধিতার আওয়াজ তুলে বিএনপি সাধারণ অসচেতন মানুষের সমর্থন অর্জনে সক্ষম হয়। এই সমর্থন নিয়ে কয়েকবার রাষ্ট্র ক্ষমতার স্বাদ পাওয়া বিএনপি এখন ধনীদের দল। অনেক নেতা দলের পদ পদবির জন্য অর্থ ব্যয় করতে কাপর্ণ্য করেন না। তবে বর্তমান সরকারের পুলিশ-র‌্যাবের মারমুখি আচরণের কারণে আন্দোলনে নামতে ভয় পান। বিক্ষোভ মিছিল এড়িয়ে চলেন। কমিটি ঘোষণার পর বেশ কয়েকদিন কেটে গেছে। এই কয়দিন শুধু কমিটি নিয়ে নেতাদের মান-অভিমান, ক্ষোভ-বিক্ষোভ, ব্যাখ্যা-বিবৃতি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। নতুন কমিটি কোনও বৈঠক করেনি, কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচিও দিতে পারেনি। সহসা কোনও বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনাও নেই। বেগম খালেদা জিয়া আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে পারেন। এর আগে দলের স্থায়ী কমিটির একটি বৈঠক হতে পারে। সেই বৈঠকে আন্দোলনের কোনও কর্মসূচি নেয়া হবে বলে মনে হয় না। কারণ এখন বর্ষাকাল।
আওয়ামী লীগের পাশাপাশি বিএনপি একটি বড় রাজনৈতিক দল। দলটিকে নিয়ে আওয়ামী লীগের যেমন ভীতি আছে, তেমন বিএনপির নেতাকর্মীরাও ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু অতীতে একাধিক ভুলের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি তাদের। ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে যারা বিএনপির নেতৃত্বে এসেছিলেন, এবারও তারাই আছেন। কয়েকজনের মৃত্যু হয়েছে, কয়েকজন বার্ধক্যজনিত কারনে অবসরে গেছেন, কয়েকজন পদত্যাগ করেছেন। এদের সংখ্যা খুবই কম। দলের রণকৌশল নির্ধারণে এদের তেমন ভূমিকাও থাকে না। আগামীতেও দলের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে না বলেই ধারনা করা যায়। গুলশানের আর্টিজান বেকারি ও শোলাকিয়া ঈদ জামাতের ঘটনা দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে  শঙ্কিত করেছে। নড়েচড়ে বসেছে সরকার। তবে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখায় বিএনপি। নয়াপল্টনের কার্যালয় থেকে শুধু বিবৃতি নয়, স্বয়ং দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াও বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে একের পর এক বৈঠক করেছেন তাঁর দল ও জোটের শীর্ষ নেতা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিগণের সাথে। অনেকদিন পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তাদের সরব পদচারণাকে বিশেষ ইঙ্গিতময় বলেই মনে করা হয়েছিল। জঙ্গি বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচিও তৈরি করা হচ্ছিল। তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, এই সুযোগে তারা মাঠে নামতে পারবেন। নীতিগত কারণেই সরকার বাধা দেবে না। পুলিশও ধাওয়া করবে না। কিন্তু এরই মধ্যে মুদ্রা পাচার মামলায় হাইকোর্ট দলের ‘কা-ারী’ তারেক রহমানের ৭ বছর জেল দিয়ে দেন। শিকেই ওঠে জঙ্গি প্রতিরোধ আন্দোলন। জরুরি হয়ে পড়ে তারেক রহমানের সাজার প্রতিবাদ করা। সিদ্ধান্ত হয়, ঢাকা মহানগরীসহ দেশের সকল মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করা হবে। এই আন্দোলন সফল হয়নি। এখন দেখার বিষয় বেগম খালেদা জিয়া সৌদি আরব ও ল-ন সফর শেষে ঈদের পর দেশে ফিরে কী বর্মসূচি দেন।#
লেখক: সাংবাদিক।

তারিখ: ১১/০৮/১৬,  মোবাইল: ০১৭১১৭৮৯৯৫৫


স্টাফ রিপোর্টার: নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পৌর বিএনপির উদ্যোগে মাহে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার শেষ বিকালে বনপাড়া বাজারে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে পৌর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক লুৎফর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন সম্পাদক ও নাটোর জেলা আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এ্যাড. রুহুল আমিন তালুকদার টগর। প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে জেলা যুবদলের সভাপতি সাইফুল ইসলাম আফতাব, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও নাটোর এনএস সরকারী কলেজের ভিপি সানোয়ার হোসেন তুষার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠণিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আলিম, যুগ্ন সম্পাদক হাবিবুর রহমান, বনপাড়া পৌর বিএনপির যুগ্ন আহ্বায়ক ওয়ার্ড কাউন্সিলর আতিকুর রহমান বেলাল, মফিজউদ্দিন মৃধা ও হোসেন আলী ফকির, উপজেলা যুবদলের সভাপতি সরদার রফিকুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শাহাবুল ইসলাম, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কোরবান আলী ও বনপাড়া পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এম এ হামিদ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ মোনাজাত করেন বনপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা আব্দুর রশিদ।




প্রান্তজন রিপোর্ট: সরকার ‘সাঁড়াশি অভিযানের’ পর বিএনপিকে দমনে ‘নতুন ষড়যন্ত্র’ করছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার দুপুরে রাজধানীতে এক আলোচনা সভায় জঙ্গিবাদকে পরাজিত করতে গণতন্ত্রের ‘জানালা-দরজা’ খুলে দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।
চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীকে হত্যার পর পুলিশের শুরু হওয়া ‘সাঁড়াশি অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে বিরোধী দলকে দমন করতে যে পন্থা তারা (সরকার) নিয়েছে- সাঁড়াশি অভিযান, এতে সাধারণ জনগণকে তারা আক্রমণ করছে, তাদেরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে নিয়েছে। ১৩ হাজার আটকের মধ্যে সন্দেভাজন জঙ্গি মাত্র ১৭৯ জন। আবারও না কি শুরু করতে যাচ্ছে- গল্প হলো আজকে।
“কাদেরকে দমন করতে চাচ্ছেন? বিরোধী দল বিএনপিকে। এতো নির্যাতন ৮ বছর ধরে তারা চালিয়েছেন, এই নির্যাতন করে বিএনপিকে আপনারা দমন করতে পারেননি, বিএনপির আদর্শকে দমন করতে পারেননি। সেজন্য আজকে আবার নতুন করে দমন করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছেন।”
সরকারকে হুঁশিয়ার করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, কোনো লাভ হবে না। বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে না, বিএনপিকে এভাবে দমন করা যাবে না। এই ভয়ঙ্কর পথ থেকে সরে আসুন। এই আগুন নিয়ে খেলবেন না। বার বার বলছি, ফিরে আসুন।”
গণতন্ত্রের ‘জানালা-দরজা’ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতি করতে দিন, গণতান্ত্রিক ক্ষেত্রকে প্রসারিত করুন, এমনিতেই সংকুচিত করে ফেলেছেন। গণতন্ত্রের জানালা-দরজা খুলে দেন,  জঙ্গিবাদ এমনিতেই পরাজিত হবে, গণতন্ত্রের কাছে জঙ্গিবাদ পরাজিত হবে।”
রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের মহানগর কার্যালয়ে মওলানা ভাসানী মিলনায়তনে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রায়ত অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞা স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। গত ১৩ জুন রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
দেশে একদলীয় শাসন চলার অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, “চতুর্দিকে তাঁকিয়ে দেখুন, পত্র-পত্রিকায় সব খানে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তার দিকে, যাদের দায়িত্ব হচ্ছে নিরপেক্ষ থাকা, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তারা সেটা বেমালুম ভুলে গিয়ে অনেকেই এখন আওয়ামী লীগের আদর্শকে রাষ্ট্রীয় আদর্শ মনে করে কাজ করছেন।”
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে সব জায়গায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন অভিযোগ করে তিনি বলেন, “যারা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে না, তাদেরকে তারা সরিয়ে দিচ্ছেন।”
জঙ্গিবাদের জন্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “এই জঙ্গিবাদের উত্থান বহু আগে থেকে। এই জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদের চরম পন্থা- এগুলোর উৎপাদন এই সরকারি দলই করেছিল। সেই ১৯৭২-৭৫ সাল পর্যন্ত বিরোধী দলকে পুরোপুরি ধবংস করে দেওয়ার জন্য তারা (আওয়ামী লীগ) সন্ত্রাসের আশ্রয় নিয়েছিল।
“তারা রাষ্ট্রীয় পর্য়ায়ে রক্ষীবাহিনী তৈরি করেছিল, যে বাহিনী দিয়ে তারা দেশের হাজার হাজার বিরোধী মতালম্বী তরুণ-কিশোর-যুবকদের হত্যা করেছে। যারাই সেদিন বিরোধিতা করেছে, তাদের হত্যা করেছে, আজকের মতোই মামলা দিয়েছে অথবা পঙ্গু করে দিয়েছে।”
আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালের নির্বাচনে ক্ষমতা এসে ‘একই কাজ’ শুরু করেছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, “এবার সংবিধান পরিবর্তন করে আইন-কানুনকে সামনে নিয়ে তারা আবার একদলীয় শাসনকে পাকাপোক্ত করার চেষ্টা করছে।”
সরকারের বিরুদ্ধে ‘দমননীতির’ অভিযোগ তুলে মির্জা ফখরুল বলেন, “আজকে শুধু বিএনপি নয়, ২০ দলীয় জোট নয়, ভিন্নমত পোষণকারী যেমন মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপি করেন না, তাকে আজ ১৩ মাস কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। ইটিভির আবদুস সালাম, আমার দেশ পত্রিকার মাহমুদুর রহমানকে দীর্ঘদিন কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে।
“বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক আবদুল মান্নানসহ অনেকেই কারাগারে রয়েছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের আটকিয়ে রাখা হয়েছে।”
ইতালির নাগরিক চেজারে তাভেল্লা হত্যা মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর নেতা এম এ কাইয়ুমের বিরেুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়ার উদ্যোগ চলার অভিযোগও করেন মির্জা ফখরুল।
“হত্যাকাণ্ডের পরপরই বলা হল- এর সঙ্গে বিএনপি জড়িত। যার সঙ্গে বাস্তবতা ও সত্যের কোনো মিল নেই। কাইয়ুম সাহেব ও তার ভাইকে আসামি করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মূল বিষয়টাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া। যারা অপরাধী তাদেরকে যেন খুঁজে পাওয়া না যায়, সেজন্য এই অভিযোগপত্র দেওয়া হচ্ছে।”
অনুষ্ঠানে প্রয়াত অধ্যাপক মনিরুজ্জামান মিঞার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার জীবন ও কর্মের ওপর স্মরণিকা প্রকাশ করতে জিয়া পরিষদকে পরামর্শ দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।
সংগঠনের চেয়ারম্যান কবির মুরাদের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদ, জিয়া পরিষদের সহ সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান ও অ্যাডভোকেট মাহফুজুর রহমান ফরহাদ বক্তব্য রাখেন।


ষষ্টধাপে অনুষ্টিত ইউপি নির্বাচনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী শওকত রানা লাবুর বিরুদ্ধে নৌকা প্রতীকের পরাজিত আ’লীগ প্রার্থী আইয়ুব আলী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় আপত্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিবৃতি প্রকাশ করায় পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু।
গুরুদাসপুর উপজেলা আ’লীগ নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান হীরার সভাপতিত্বে শুক্রবার সন্ধ্যে সাড়ে ৬টায় গোপিনাথপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে নবনির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যান শওকত রানা লাবু আ’লীগের পরাজিত প্রার্থী আইয়ুব আলীর উদ্দেশ্য প্রণোদিত ওই আপত্তিকর বিবৃতি প্রকাশের ক্ষুব্ধ সমালোচনা করেন।
প্রতিবাদ জানিয়ে শওকত রানা লাবু বলেন, বিপুল ভোটে পরাজিত হয়ে আ’লীগ প্রার্থী আইয়ুব আলী পরাজয়ের গ্লানি মাথায় নিয়ে প্রলাপ বোকা শুরু করেছেন। তিনি আরো বলেন, নৌকা প্রতীকের পরাজিত আইয়ুব আলীকে সন্ত্রাস ও চান্দাবাজির কারণে প্রত্যাখ্যান করেছেন নাজিরপুর ইউনিয়নবাসী। পরাজিত আ’লীগ প্রার্থীর পুন: ভোট দাবীকে পাগলের প্রলাপ বলে মনে করেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান।
নির্বাচনে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুস সাহেব কোনপ্রকার হস্তক্ষেপ বা কোন প্রভাব খাটাননি। আমি শওকত রানা লাবু আমার জনপ্রিয়তায় ইর্ষান্বিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য রেখে সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা বিবৃতি দিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ ইব্রাহিম হোসেন, আজিজুল হক মাষ্টার, আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, আব্দুল হালিম, রওশন আলী, হাফিজুর রহমান লালু, নজরুল ইসলাম, জামাল উদ্দিন, মিন্টু বিশ্বাস সহ নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবুল কবির জানান, উপজেলার কোথাও ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম বা কোন কারচুপির অভিযোগ আসেনি। আমরা সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছি।

Contact Form

Name

Email *

Message *

Powered by Blogger.
Javascript DisablePlease Enable Javascript To See All Widget